সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬ , ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অপরিকল্পিত বাঁধে হাওরে সর্বনাশ জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত লক্ষাধিক হেক্টর জমির ফসল শনিবার সিলেট আসছেন প্রধানমন্ত্রী শান্তিগঞ্জে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সিসি ব্লক চুরির অভিযোগ উন্নয়ন প্রকল্পে বদলাচ্ছে ৫ বিদ্যালয়ের অবয়ব দিরাইয়ে ৬ দোকান পুড়ে ছাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন এমপি কামরুজ্জামান কামরুল আজ মহান মে দিবস তাহিরপুরে ভাঙারখাল নদীর উপর টোল-ফ্রি বাঁশের সেতু নির্মাণ, স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে ৬৪৭৬ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল ডিসি সম্মেলন শুরু ৩ মে, থাকছে ৪৯৮ প্রস্তাব সুনামগঞ্জসহ ৫ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস উদযাপিত জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেল ছায়ার হাওর কাটা ধানে গজাচ্ছে চারা জলাবদ্ধতায় ডুবছে হাওরের ধান, অসহায় কৃষক হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর পরিস্থিতি বিবেচনায় ধাপে ধাপে ব্যারাকে ফিরবে সেনাবাহিনী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিরাইয়ে পৃথক দুই সংঘর্ষে আহত ৪০ হাওর বাঁচাতে আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনের প্রস্তাব সংসদে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে তোলপাড়
মরে গেছে সড়কের পাশে থাকা দুই হাজার গাছ

গাছ বাঁচাতে উদাসীন বন বিভাগ

  • আপলোড সময় : ১৩-০১-২০২৬ ০৮:৫৮:৪৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৩-০১-২০২৬ ০৯:০০:৪৭ পূর্বাহ্ন
গাছ বাঁচাতে উদাসীন বন বিভাগ
আকরাম উদ্দিন::
সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়ক এবং সুনামগঞ্জ-দোয়ারাবাজার সড়কের দুই পাশের অন্তত দুই হাজার গাছ মরে গিয়ে উজাড় হয়ে পড়েছে প্রাকৃতিক সবুজ পরিবেশ। গাছ বাঁচাতে বন বিভাগের কার্যকর উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সুনামগঞ্জ শহরের পূর্বদিকে দোয়ারাবাজার যাতায়াতের সড়ক এবং শহরের দক্ষিণ দিকে সাচনাবাজার যাতায়াতের এই সড়ক অবস্থিত। মোট ৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের। স্থানীয়রা জানান, চলতি বছরেই অন্তত দুই হাজারের বেশি গাছ মারা গেছে। এসব গাছের বয়স প্রায় ২৫ থেকে ৪০ বছর বা তার চেয়েও বেশি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই মূল্যবান এসব গাছ প্রাণ হারাচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, আব্দুজ জহুর সেতু থেকে সাচনা বাজার পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে সারি সারি সবুজ গাছ। একসময় পথচারী ও যানবাহন যাত্রীরা শীতল ছায়া ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এ বছর এই সড়কের প্রায় সহস্রাধিক গাছ শুকিয়ে মরে গেছে। অনেক গাছ গোড়া উপড়ে হেলে পড়েছে সড়কের দুই পাশে।
একই চিত্র দেখা গেছে সুনামগঞ্জ-দোয়ারাবাজার ১৮ কিলোমিটার সড়কেও। সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান গাছের মধ্যে এ বছর অন্তত এক হাজারের বেশি গাছ মরে পড়ে আছে বলে জানান স্থানীয়রা। তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত উদ্যোগ না নিলে আরও কয়েক হাজার গাছ মারা যেতে পারে।

স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, সড়কের পাশে হেলে পড়া বা মরে যাওয়া গাছগুলো কতিপয় ব্যক্তিরা রাতের আঁধারে নিয়ে যায় স’মিলে। গাছ বিক্রি করার সাথে সাথে অসাধু মিল মালিকেরা কাঠ তৈরি করে ফেলেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি।
দোয়ারাবাজারের বাসিন্দা আহসান হাবিব বলেন, সড়কের পাশে মরে যাওয়া গাছগুলোর দিকে তাকালে মনে হয়, এসব গাছের যেন কোনো মালিক নেই। গাছ মরে গেলে দুই পাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে। বিষয়টি আমাদের মনে খুব পীড়া দেয়।

সাচনাবাজারের বাসিন্দা হাফিজুল ইসলাম বলেন, সড়কের দুই পাশের সবুজ চিত্র আর থাকবে না। শীতল হাওয়ায় চলাচলের যে স্বস্তি ছিল, তা হারিয়ে যাবে। এই সৌন্দর্য আগামী চল্লিশ বছরেও ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই দ্রুত গাছ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। সুনামগঞ্জ-সাচনা সড়কের সিএনজি চালক শাহ জামাল বলেন, গরমের দিনে গাছের নিচে গাড়ি আসলে যাত্রীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারতেন। কিন্তু গাছগুলো চোখের সামনে মরে যাচ্ছে। এগুলো রক্ষায় উদ্যোগ নেয়া উচিত।

পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজা বলেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সুনামগঞ্জের এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ মারাত্মভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সুনামগঞ্জ পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সেক্রেটারি ফজলুল করিম সাঈদ বলেন, দোয়ারা ও সাচনা সড়কের দুই পাশের মূল্যবান গাছগুলো দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকায় অনেক গাছ মরে গেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, গাছ বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে বর্তমানে সড়কের গাছ কর্তন বন্ধ রয়েছে। প্রতি বছর গাছ কর্তন ও রোপণের কর্মসূচি থাকলেও দলীয় সরকার গঠন হলে গাছগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স